Home / International / কাশ্মির নিয়ে পাক-ভারত উত্তেজনা

কাশ্মির নিয়ে পাক-ভারত উত্তেজনা




বছরের মাঝামাঝিতে এসে ভারতীয় শাসনের অবসান ও স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ভারত অধিকৃত কাশ্মির। ৮ জুলাই কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা বুরহান মুজাফফর ওয়ানি ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত হন। কাশ্মিরের তরুণ, যুবা, বৃদ্ধ সবার কাছে প্রচণ্ড জনপ্রিয় ছিলেন বুরহান। একটি সরকারি অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষের ছেলে বুরহান সশস্ত্র যোদ্ধা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে আলোচিত। স্বাধীনতার পক্ষে ফেসবুক-টুইটারে গঠনমূলক প্রচারণা তাকে জনপ্রিয় করে কাশ্মিরের তরুণদের মধ্যে।
কাশ্মিরের কোকেরনাগ এলাকার একটি গ্রামে পরিকল্পিতভাবে বুরহান ও তার দুই সহযোদ্ধাকে হত্যা করে ভারতীয় যৌথবাহিনী। এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে সমগ্র উপত্যকা। বুরহান হত্যার প্রতিবাদে নতুন করে জেগে ওঠে কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলন। আন্দোলন দমন করতে মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি স্বাধীনতাকামী জনতাকে। এরপর অঞ্চলজুড়ে জারি করা হয় কারফিউ। ইন্টারনেট, টেলিফোন সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে তরুণ, যুবকদের আটক করে পুলিশ। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয় ৮৫ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক। আহত হয়েছে কয়েক হাজার। পুলিশের ছররা গুলিতে চোখ হারিয়েছে কয়েক শ’ কাশ্মিরি।
একপর্যায়ে কাশ্মির ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পারমাণবিক শক্তিধর দুই আঞ্চলিক প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত দাবি করে তারা আজাদ কাশ্মিরে প্রবেশ করে কয়েকটি সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বিশ্ব মিডিয়ার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি তাদের এই দাবি। এর পরও কয়েক দফা গোলাগুলি হয় সীমান্তে এবং মারা যায় উভয় দেশের বেশ কিছু সৈন্য। চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্কসহ বেশ কিছু শক্তিধর দেশ সরাসরি পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়ায় ভারত আগ্রাসী মনোভাব থেকে সরে আসে। তবে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় মোদি সরকার।



Powered by themekiller.com